এশিয়ার শেয়ারবাজারে প্রধান সূচকগুলোয় পতন

সাপ্তাহিক লেনদেনের শেষদিনে গতকাল এশিয়া ও বিশ্ববাজারে শেয়ার সূচকগুলোয় পতন লক্ষ করা গেছে।

সাপ্তাহিক লেনদেনের শেষদিনে গতকাল এশিয়া ও বিশ্ববাজারে শেয়ার সূচকগুলোয় পতন লক্ষ করা গেছে। এতে মূল প্রভাবক হিসেবে কাজ করেছে প্রযুক্তি খাতের বড় সূচকগুলোর নিম্নমুখী প্রবণতা। ওয়াল স্ট্রিটে এনভিডিয়া, মাইক্রোসফট ও অ্যামাজনের পতন বাজারের গতিপ্রকৃতি নির্ধারণে বড় ভূমিকা রেখেছে। একই সঙ্গে চীনের রফতানি কমে যাওয়া, মার্কিন শাটডাউন ও অর্থনৈতিক তথ্যের ঘাটতি বাজার উদ্বেগ আরো বাড়িয়েছে। দেশটিতে বিনিয়োগকারীরা করপোরেট আয়ের প্রতিবেদন ও বেসরকারিভাবে সংগৃহীত অর্থনৈতিক তথ্যের দিকে বেশি নজর দিচ্ছেন। খবর এপি।

জাপানের নিক্কেই ২২৫ সূচক শুক্রবার ১ দশমিক ১ শতাংশ কমেছে। হংকংয়ের হ্যাং সেং সূচক ও চীনের মূল ভূখণ্ডের সাংহাই কম্পোজিট সূচক কমেছে যথাক্রমে ১ ও দশমিক ৩ শতাংশ। অন্যদিকে দক্ষিণ কোরিয়ার কসপি সূচক ১ দশমিক ৮ শতাংশ সংকুচিত হয়েছে। তাইওয়ানের তাইএক্স সূচক কমেছে দশমিক ৯ শতাংশ। অস্ট্রেলিয়ার এসঅ্যান্ড/এএসএক্স ২০০ সূচক দশমিক ৭ শতাংশ পতন দেখেছে।

চীন জানিয়েছে, গত মাসে দেশটি থেকে ২০২৪ সালের একই সময়ের তুলনায় রফতানি কমেছে ১ দশমিক ১ শতাংশ। বিশেষ করে প্রধান বাজার যুক্তরাষ্ট্রে রফতানি কমেছে ২৫ শতাংশ। তবে অর্থনীতিবিদরা আশা করছেন, শিগগিরই চীনের রফতানির গতি পুনরুদ্ধার হবে। কারণ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং বাণিজ্যযুদ্ধ হ্রাসের বিষয়ে সম্মত হয়েছেন।

বিশ্লেষকরা বলছেন, পুরো সপ্তাহজুড়ে শেয়ারবাজার সূচকগুলোয় ওঠা-নামার প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে প্রযুক্তি খাতের উদ্বেগ। গত বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রে এসঅ্যান্ডপি ৫০০ সূচক কমেছে ১ দশমিক ১ শতাংশ। ডাও জোন্স ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যাভারেজ কমেছে দশমিক ৮ শতাংশ। অন্যদিকে প্রযুক্তিভিত্তিক নাসডাক ১ দশমিক ৯ শতাংশ সংকুচিত হয়েছে।

শেয়ারবাজারের উত্থানে ভূমিকা রাখা বড় দুই প্রযুক্তি কোম্পানি এনভিডিয়া ও মাইক্রোসফটের শেয়ারদর কমেছে গত বৃহস্পতিবার। কমার হার যথাক্রমে ৩ দশমিক ৭ ও ২ শতাংশ। বড় আকারের বাজারমূল্যের কারণে পুঁজিবাজারের গতিপ্রকৃতি নির্ধারণে কোম্পানি দুটির উত্থান বা পতন উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলে। অন্যান্য বড় কোম্পানির শেয়ারদরেও পতন দেখা যাচ্ছে। এর মধ্যে অ্যামাজনের শেয়ারদর কমেছে ২ দশমিক ৯ শতাংশ।

এদিকে আকাশছোঁয়া বেতন প্যাকেজের বিষয়ে গত বৃহস্পতিবার শেয়ারহোল্ডারদের সমর্থন পেয়েছেন ইলোন মাস্ক। ভোটাভুটিতে জেতা প্রস্তাব অনুসারে আগামী এক দশকে নির্দিষ্ট লক্ষ্য পূরণ করলে টেসলার ১ ট্রিলিয়ন ডলার মূল্যের শেয়ার পাবেন তিনি। কোম্পানিটির শেয়ারদর গত এক বছরে বেড়েছে ৮০ শতাংশ। গত বৃহস্পতিবার লেনদেনের শুরুতে কমলেও পরে টেসলার শেয়ারদর বাড়ে। শেয়ারপ্রতি ৪৪৫ ডলার ৯১ সেন্টে লেনদেন শেষ হয়েছে।

মার্কিন পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত অনেক প্রতিষ্ঠান চলতি বছরের তৃতীয় প্রান্তিকের (জুলাই-সেপ্টেম্বর) আর্থিক ফলাফল ও পূর্বাভাস প্রকাশ করেছে। এখন সেদিকেই ওয়াল স্ট্রিটের মূল মনোযোগ। বিনিয়োগকারীদের মতে, সাম্প্রতিক ব্যবসায়িক ফলাফল ও করপোরেট নির্বাহীদের বিবৃতি মার্কিন অর্থনীতির অবস্থা ও ভবিষ্যৎ গতিপ্রকৃতি তুলে ধরতে পারে। সরকারি শাটডাউনের কারণে মূল্যস্ফীতি, কর্মসংস্থান ও খুচরা বিক্রির ওপর বিস্তারিত তথ্য না থাকায় এ ধরনের তথ্যের ওপর নির্ভর করছেন তারা।

গত বৃহস্পতিবার ডোরড্যাশের শেয়ারদরে ১৭ দশমিক ৫ শতাংশ পতন ঘটে, যা ওয়াল স্ট্রিটে অন্যতম বড় পতন। এর আগে খাদ্য ডেলিভারি অ্যাপটি সতর্ক করে বিনিয়োগকারীদের জানিয়েছে, আগামী বছর পরিষেবা উন্নয়নে তারা বড় ধরনের খরচ করবে। অন্যদিকে বিনিয়োগকারীদের হতাশাজনক আর্থিক তথ্য দেয়ার পর কারম্যাক্সের শেয়ারদর কমেছে ২৪ দশমিক ৩ শতাংশ। একই সঙ্গে কোম্পানি সিইওর পদত্যাগের তথ্যও দেয়া হয়।

সফটওয়্যার কোম্পানি ডাটাডগের শেয়ারদর বেড়েছে ২৩ দশমিক ১ শতাংশ। সম্প্রতি কোম্পানিটি জানিয়েছে, তারা বিশ্লেষকদের পূর্বাভাসের তুলনায় বেশি আয় করেছে। একই ধরনের আর্থিক প্রতিবেদনের পর রকওয়েল অটোমোশনের শেয়ারদর বেড়েছে ২ দশমিক ৭ শতাংশ।

চলতি বছর ওয়াল স্ট্রিটে বড় শেয়ারবাজার সূচকগুলোয় রেকর্ড দর বেড়েছে। এতে শেয়ারগুলোর অতিমূল্যায়িত হওয়া নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে উদ্বেগের কেন্দ্রে রয়েছে বড় প্রযুক্তি কোম্পানিগুলো। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতে অগ্রগতির ওপর ভর করে এসব কোম্পানির শেয়ারদরে রেকর্ড উল্লম্ফন দেখা যাচ্ছে।

বর্তমানে আর্থিক প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে কোম্পানিগুলোর শেয়ারদরের বৃদ্ধিকে যাচাই করছেন বিশ্লেষকরা। এসব বিশ্লেষণ শাটডাউনের কারণে সৃষ্ট তথ্যের ঘাটতি পূরণেও সহায়তা করছে। সরকারি উৎসের বাইরে ওয়াল স্ট্রিট এখন অর্থনৈতিক তথ্যের জন্য বেসরকারি উৎসের ওপর আগের তুলনায় বেশি নির্ভর করছে।

নিয়োগবিষয়ক সংস্থা চ্যালেঞ্জার, গ্রে অ্যান্ড ক্রিসমাসের প্রতিবেদন অনুযায়ী অক্টোবরে যুক্তরাষ্ট্রে চাকরিতে ছাঁটাই বেড়েছে ১৭৫ শতাংশ। মূলত ভোক্তা ও করপোরেট খরচ হ্রাস, পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি ও এআইয়ের ব্যবহার বৃদ্ধি এর কারণ।

এদিকে চলমান শাটডাউনের সরাসরি প্রভাব পড়ছে মার্কিন এয়ারলাইনস খাতে। বিমানবন্দরগুলোয় দেখা দিয়েছে কর্মী সংকট। নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এফএএ) গতকাল থেকে ৪০টি ব্যস্ত বিমানবন্দরে ১০ শতাংশ ফ্লাইট কমাতে নির্দেশ দিয়েছে।

আরও